বাংলাদেশ থেকে

অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়া হয়; পিবিআই

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত নুর উদ্দিন।

তাছাড়া এই হত্যাকান্ডে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশেই এই হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ডিআইজি ও পিবিআই প্রধান বনোজ কুমার মজুমদার। আজ ১৩ এপ্রিল দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে নুর উদ্দিন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। জবানবন্দিতে সে জানায়, নুসরাতকে হত্যার সময় চারজন বোরখা পরিহিতের মধ্যে একজন ছেলে আর বাকি তিনজন মেয়ে ছিল। আর ওই একজন ছেলেটাই শামীম। বাকিরা সবাই ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী।

তাছাড়া হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ সভাপতি শাহদাত হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি মেয়েগুলোর একজনের দায়িত্ব ছিল কেরোসিন ও বোরকা সরবরাহ করা। আর শম্পা বা চম্পা নামের আরেকটা মেয়ের দায়িত্ব ছিল নুসরাতকে ছাদে পাঠানো। সে পরীক্ষাহলের বাইরে এসে নুসরাতকে জানায় যে নিশাতকে (নুসরাতের বান্ধবী) মারা হচ্ছে ছাদে। সেই শম্পা বা চম্পাও গ্রেপ্তার হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে শামীম ও নুর উদ্দিন। তবে পুড়িতে হত্যার প্রস্তাব করে শামীম নিজে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শামীম, এস এম সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, জুবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন এবং আফছার উদ্দিন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানায় পিবিআই

৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

প্রবাস কথা ডেস্ক 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.