Featured এশিয়া মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বেড়েছে রিঙ্গিতের মান, স্বস্তিতে প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

২০১৪ অর্থ বছরে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ব্যাপক চাঙ্গা অবস্থা বিরাজ ছিল। কিন্তু ২০১৫ থেকে ২০১৬ অর্থ বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অর্থনীতিতে ধস নেমে আসে ৷ এতে করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি বা অন্য দেশের প্রবাসীদের মাসিক ও বাৎসরিক আয়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ৷

তবে গেল বছরের নভেম্বর মাস থেকে মার্কিন ডলার ও টাকার বিপরীতে রিঙ্গিতের মান উর্ধমুখী হতে থাকে ৷ এর আগে রিঙ্গিতের মান নিন্মমুখী হওয়ায় এর মান উর্ধমুখী করার লক্ষ্যে গুডস এন্ড সার্ভিসেস টেক্সসহ (জিএসটি) বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে মালয়েশিয়া সরকার ৷

এ দিকে মালয়েশিয়ার যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সব চেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প এমআরটি পরিবহন প্রকল্প ৷ ধারণা করা হয়, এ প্রকল্প ও পাম তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে রিঙ্গিতের মানের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ৷ কার্যত্ব এমআরটি প্রকল্পের একটি লাইন উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক মন্দতা কাটিয়ে উঠতে থাকে মালয়েশিয়া ৷ এরই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের ধর বৃদ্ধিও মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে ইতিবাচক পর্যায়ে যেতে সহায়তা করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা ৷ এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে মালয়েশিয়া অর্থনীতি ৷ চলতি অর্থ বছরের প্রথমদিন থেকেই প্রায় ধারাবাহিকভাবে টাকার বিপরীতে রিঙ্গিতের মান উর্ধমুখী হচ্ছে ৷

আজ ৩১ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১১টায় প্রতি রিঙ্গিতে বাংলাদেশি মুদ্রার হার ছিল ২১ টাকা ১৫ পয়সার ৷ মালয়েশিয়ায় উপার্জিত অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশই দেশে প্রেরণ করে প্রবাসীরা ৷ বেতন বৃদ্ধি না পেলেও দেশীয় মুদ্রার হিসাবে আগের থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ ৷ গত বছরেও প্রতি হাজার রিঙ্গিতের বিনিময় মূল্য ছিল ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকার মতো। ফলে, ২০১৪ সালের তুলনায় মাসিক আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা কমে যায় প্রবাসীদের যার সরাসরি প্রভাব পরে দেশের প্রবাসী আয়েও ৷ তবে বর্তমানে প্রতি হাজার রিঙ্গিতের বিনিময় মূল্য ২১ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে ৷

স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের মতে,  চলতি বছরে মার্কিন ডলার ও টাকার বিপরীতে রিঙ্গিতের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখবে ৷

এ দিকে টাকার বিপরীতে রিঙ্গিতের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৷ কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৷

প্রবাস কথা’র এ প্রতিবেদক এ প্রসঙ্গে  কয়েক জন প্রবাসীর সাথে কথা বললে তারা বলেন,

‘রিঙ্গীতের মান বাড়াতে আমরা অনেক খুশি ৷ যখন রিঙ্গিতের মান কমে গেছিল তখন এখানকার খরচ মিটিয়ে নাম মাত্র কিছু টাকা দেশে পাঠাতে পারতাম, এখন একটু বেশি পাঠাতে পারবো ৷ আমরা চাই রিঙ্গিতের মান আরও বৃদ্ধি পাক, তবে সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন দ্রব্যাদির দাম আগের থেকে অনেক বেড়েছে ৷ রিঙ্গিতের মান বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে যদি দ্রব্য মূল স্থিতিশীল থাকে তাহলে, আমাদের আয়ের পরিমান আরও বৃদ্ধি পাবে ৷’

 

  • শাহরিয়ার তারেক, প্রবাস কথা, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.