এশিয়া মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় ‘বিফোরজি’ প্রকল্পে দালালি করার সময় বাংলাদেশি আটক

শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ার অভিবাসনের সদর দপ্তর পুত্রযায়ায় এক বাংলাদেশি দালালকে আটক করা হয়েছে। তথ্য মতে, দেশটিতে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ‘ব্যাক ফর গুড’ (বিফোরজি) নামক নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠে দালালচক্র।

এমন অভিযোগের ভিওিতে ৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনে দালালি করতে যেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে দালাল চক্রের এ সদস্য। এ চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্তের স্বার্থে আটককৃত বাংলাদেশি দালালের নাম প্রকাশ করেননি অভিবাসন দপ্তর ৷

উল্লেখ্য গত ১৮ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ব্যাক ফর গুড’ (বিফোরজি) নামক নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠে দালালচক্র। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আকৃষ্ট করছে অবৈধ কর্মীদের। এসব চটকদার কথা দালাল বা প্রতারকদের সঙ্গে লেনদেন না করতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ ও হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।
এ কর্মসূচির সুফল প্রাপ্তির জন্য হাইকমিশন ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ কাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির অধীনে সাহযোগীতার জন্য আরও ২০ জন কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যাদের যে তথ্য এবং নথিপত্র প্রয়োজন তা দ্রুত সরবরাহের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের নির্দেশে শ্রম কাউন্সিলর মো: জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ার পুত্রযায়া ও জালান দোতা ইমিগ্রেশনে বিফোরজি কর্মসুচি পরিদর্শন করেছেন। জালান দোতা ইমিগ্রেশনের ডাইরেক্টর জুলকারনাইন ও পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনের ডাইরেক্টর শারাভানার সঙ্গে দূতাবাসের প্রতিনিধিদল সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত কালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং সুষ্টুভাবে তাদের সেবাদানে সর্বাত্বক চেষ্টা করা হবে আশস্ত করেন তারা।

বিমানবন্দরে হারানো লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও রিয়াল ফেরত পেলেন সৌদি প্রবাসী

শ্রম কাউন্সিলর মো: জহিরুল ইসলাম জানান, সাধারণ ক্ষমা (বিফোরজি) কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফিরে যেতে নয় আগষ্ট শুক্রবার পুত্রাযায়া ইমিগ্রেশনে ২৩৭ জন বাংলাদেশি আবেদন করেছে । এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত এ কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশের কোনো তথ্য নেই বা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করেছে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছে এমন ব্যক্তিরা সহজ শর্তে মালয়েশিয়া ত্যাগের সুযোগ পাবেন। দূতাবাস থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০টি করে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন জমা পড়ছে। গত ১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৪৫০টি ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়েছে। তবে ট্রাভেল পাশ ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারির তথ্যাধি যাচাই বাচাই পূর্বক ট্রাভেল পাশ ইস্যু করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি তথ্য গোপন রাখেন অথবা তথ্য মিথ্যা প্রমানিত হয় সেক্ষেত্রে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবেনা বলেও জানান তিনি ৷

এ কর্মসূচির কাজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ বা ভেন্ডর বা এজেন্ট নিযুক্ত করা হয়নি। কোনো মাধ্যম ছাড়াই আবেদনকারীকে সরাসরি নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে স্বশরীরে হাজির হতে হবে।
যদি কেউ তৃতীয় পক্ষ বা ভেন্ডর বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রদান করে আর সেটি প্রমাণিত হয় তাহলে আবেদনকারীর জেল জরিমানা হতে পারে।
সুতরাং আবেদনকারী সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য হাইকমিশনের পরামর্শ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রবাস কথা ডেস্ক, ঢাকা

বিশ্বে শান্তির নজির তৈরি করবে কাশ্মীরঃ নরেন্দ্র মোদি

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.