ভারত

আক্রমণের নিশানায় মুম্বাইয়ের কথিত অবৈধ বাংলাদেশীরা

২০১৬ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছিলেন, সে দেশে দুই কোটি বাংলাদেশি অবৈধভাবে রয়েছেন। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছিলেন তিনি।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই থেকে এ তথ্য জানা গেছে, কিরেন রিজিজু বলেছিলেন, বাংলাদেশি নাগরিকেরা ভ্রমণের জন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছেন বলে খবর আছে। বাংলাদেশিদের এভাবে প্রবেশ গোপনে হয় বলে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঠিক কতজন বাংলাদেশি অবৈধভাবে আছেন, সে ব্যাপারে নিখুঁত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই দেশের আরও নানা প্রান্তে অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করার দাবি তুলছে বিজেপি-সহ নানা রাজনৈতিক দল গুলো।

বিবিসির খবরে বলা হয়, আরও একবার আক্রমণের নিশানায় মুম্বাইয়ের কথিত অবৈধ বাংলাদেশীরা, যাদের দেশ থেকে তাড়ানোর দাবি উঠছে প্রকাশ্যেই।

কিন্তু এই ইস্যু নিয়ে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী কি আদৌ ভাবিত, না কি দেশে নির্বাচনের আগে শ্রমজীবী এই গরিব মানুষগুলোকে আরও একবার রাজনৈতিক বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা চলছে?

আরব সাগরের তীরে নতুন করে এই বাংলাদেশী তাড়ানোর ডাক ওঠায় শহরের বাংলাভাষী মুসলিমরাই বা কী বলছেন?

ভায়ান্দারের ‘বাংলাদেশ বস্তি’

মুম্বাইয়ের দক্ষিণতম প্রান্তে চার্চগেট স্টেশন থেকে ছাড়া যে লোকল ট্রেনগুলো শহরের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে, তার অনেকগুলোরই রুটের একেবারে শেষপ্রান্তে শহরতলির ভায়ান্দার স্টেশন। আর সেই স্টেশন থেকে একটু দূরেই শহরের গরিবগুর্বো মানুষের এক বিশাল কলোনি, লোকের মুখে মুখে যার নাম ‘বাংলাদেশ বস্তি’। সম্প্রতি ভায়ান্দারের এই বস্তির নাম উঠে এসেছে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের আলোচনাতেও।

খবরে আরো বলা হয়, বিজেপির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও এমপি বিনয় সহস্রবুদ্ধে বলেছেন, “সুদূর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য লোকজন অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে ভায়ান্দারে পাড়ি দিচ্ছে। মুম্বাইয়ের আশেপাশে টিলা-জঙ্গলগুলো দখল করে তারা গড়ে তুলছে বসতি, চালাচ্ছে নানা বেআইনি কাজ । এমন কী পুলিশ ধরতে গেলেও তাদের পাথর ছুঁড়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে এই বাংলাদেশীরা!” বিজেপির এই দাপুটে নেতার হুঁশিয়ারি, অবৈধ বাংলাদেশীর সমস্যা শুধু আসামের নয় – মুম্বাই-সহ সারা দেশেই তা ‘টাইম বোমার মতো টিক-টিক’ করছে। তার দলের সভাপতি অমিত শাহ তো ভারতে থাকা বাংলাদেশীদের কখনও ‘ঘুষপেটিয়া’ (অনুপ্রবেশকারী), কখনও ‘দীমক’ (উইপোকা) বলেও গালাগাল করছেন।

কিন্তু যেমনটা তারা বলছেন, সত্যিই কি বাংলাদেশীরা ছেয়ে ফেলছেন মুম্বাই শহরতলির বস্তিগুলো? ভায়ান্দারের তথাকথিত ‘বাংলাদেশ বস্তির বাসিন্দারা  জানিয়েছেন, তাদের কলোনির নাম বাংলাদেশের নামে হলেও সেখানে একঘর বাঙালি পর্যন্ত নেই। বরং বাইরের একটা দেশের নামে কেন তাদের কলোনির নাম, সেটাই তাদের এতদিন ভাবিয়ে এসেছে। জানা যায়, চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে যখন পুরনো ঝোপড়পট্টি ভেঙে এই কলোনি গড়ে তোলা হয়, তখন বাংলাদেশ যুদ্ধে জেতার সম্মানেই কিন্তু বস্তির নামকরণ করা হয়েছিল বাংলাদেশের নামে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.