Featured অন্যান্য এশিয়া

মালদ্বীপের ইফতার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার

মালদ্বীপে শতভাগ মানুষ মুসলিম, আর সেজন্য মালদ্বীপের সংবিধান ইসলাম ধর্মের আইন মতো না চললেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত আছে। রোজার মাস এলেই মালদ্বীপের মানুষের মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ দেখা যায়।

মূলত দেশটির রাজধানীর চেয়ে দ্বীপগুলোতে রোজার আমেজ দিগুণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেহরির সময় সবার ঘরে ঘরে আঞ্চলিক খাবার রান্না হয়, দ্বীপের ভেতর বাতাসে সেই খাবারের সুগন্ধি ছড়িয়ে মোহিত করে তুলে পরিবেশ। ইফতারের সময় হরেক রকম ইফতার তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের ইফতারের কথা মনে হলেই। আমাদের চোখে ভাসে ভাজাপোড়া বাহারি খাবারের কথা, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়।

মালদ্বীপের ইফতারের কিছু খাবার আপনাদের জন্য তুলে ধরলাম-

রুটি ইফতারে থাকা চাই, সাথে নারিকেল, সাগরের ফ্রেশ টোনা মাছ সিদ্ধ করে কাটা ছাড়িয়ে নিয়ে পেয়াজ, কাচা মরিচ, লেবুর রস, হিকিন্দি পাতা, ( দ্বীপের ভেতর জন্ম নেওয়া এক ধরনের গাছ) ও নারিকেল এক সাথে মিক্সড করে মজাদার সালাদ, যার স্থানীয় নাম মাছচুনি হিসেবে পরিচিত।

আর এটা স্থানীয়দের সবচেয়ে পছন্দের ব্রেকফাস্ট ও ইফতার। মাছচুনির কয়েক আইটেম আছে, যেমনঃ মাছ সিদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে আবার রোদে শুকিয়ে প্যাকেট করে রেখে দেয়, সেই শুকনো মাছ মিক্সড করে যেই মাছচুনি বানায় তার নাম বালোমাছ মাছচুনি যা খেতে সুস্বাদু। আবার, শুধু শুকনো মাছ ও পেয়াজ কাচা মরিচ লেবুর রস মিক্স করে যেই মাছচুনি বানানো হয় তার নাম মাছকোড়ালি।

হেদিকা আইটেম বা ঐতিহ্যবাহী খাবার

মালদ্বীপের মানুষদের আরেকটি পছন্দের ইফতার। এই হেদিকা বাংলাদেশের সমুচার আদলে তৈরি এক প্রকার হেদিকার নাম বাজিয়া, যার ভেতরে পূর বানানো হয় সাগরের টোনা মাছ, পেয়াজ, কাচা মরিচ, মাংসের মশলা ও অল্প চিনি মিশিয়ে। এক সাথে সবগুলো জিনিস ভালো করে রান্না করে নেয়। যেমনটি বাংলাদেশের সিংগারার আলুভাজি করা হয় এমন করে। তার পর সমুচার মতো বানিয়ে তেলে ভাজি করে নিলেই শেষ। এই বাজিয়া খেতে দারুণ টেস্ট, যা এখানে সবার প্রিয়।

বারবিকিউ ও গ্রিল ফ্রিশ

মহাসাগরের বুকে দেশ অতচ বারবিকিউ বা গ্রিল ফিশ থাকবেনা ইফতারে তা কি হয়! সাগরের হরেক রকমের রিফ-ফিশ বারবিকিউ,  গ্রিলড করা হয়ে থাকে ইফতারে, যা চাইনিজের মতো।

কাকলেট 
আলুর চপের আদলে তৈরী, শুধু বেসনের পরিবর্তে পাউরুসি পাউডার বা কাবাব বানানোর জন্য যে বিস্কুটের গুড়া ব্যবহার করা হয় সেটি। আলুভর্তা করে চপ বানিয়ে নিয়ে একটা পাত্রে বিস্কুটের গুড়া আরেকটি পাত্রে ডিম ভেঙ্গে তাতে আলুর চপ ভিজিয়ে বিস্কুটের গুড়া মিশিয়ে, তেলে ভেজে নিলেই মজার কাকলেট। আলুর চপের চেয়ে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।র

তাজা ফলের জুস থাকে ইফতারে, তার মধ্যে বেশি থাকে তরমুজ, আম, কলার মিল্কশেক, লেবুর জুস, কমলার জুস। তাছাড়াও ইফতারে থাকে তাজা ফলের সমাহার।

ইউরোপীয়ানদের আনাগোনা মালদ্বীপ সারাবছর লেগেই থাকে, সেখানে থেকেই মূলত মালদ্বীপের মানুষ উন্নত জীবনের আধুনিক ছোয়া পেয়েছে, তাই ইফতার মাহফিলেও সেই প্রভাব লক্ষ্য করার মতো। বড় কোন ইফতারের আয়োজনে আঞ্চলিক খাবারের চেয়ে ইউরোপীয় খাবারের কদর বেশিই লক্ষ্য করা যায়। স্পেগেটি, পাস্তা, নুডলস, পিজ্জা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের ইউরোপীয় খাবারের উপস্থিতি থাকে।

তাছাড়া মিষ্টি মালদ্বীপের মানুষ তেমন একটা পছন্দ করে না, এজন্যই হয়তো মালদ্বীপের মানুষের ডায়বেটিস নেই বললেই চলে। তবে খাবারের শেষে তারা হালকা মিষ্টিমুখ করে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফিরনি, কেক, পুডিং, ফ্রুট সালাদ এবং আইস্ক্রিম

তাছাড়াও মালদ্বীপের দ্বীপ গুলোতে রোজার মাসে প্রতিটি মসজিদে স্থানীয়রা ইফতার সরবরাহ করে থাকে,যা ভ্রাতৃতের বন্ধন কে আরো বাড়িয়ে দেয়।

  • কাইয়ুম ইসলাম, উমাধু আইল্যান্ড, মালদ্বীপ 

আরও পড়ুন- জাফরান উৎপাদনের শী‌র্ষে ইরা‌ন

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.