‘মাইন্ড ইওর মাদার টাং’ এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আমাদের মাতৃভাষা

received_631777140607606-620x413.jpeg

“মাইন্ড ইওর মাদার টাং” বইটি সন্তানদের সাথে মাতৃভাষাকে কিভাবে অনুপ্রাণিত করবে সেই বিষয়ে এক সাহসী তরুণী ‘তানজিলা জামান’ আপু নিরলস পরিশ্রম করে ২৫০ মিলিয়ন অভিবাসীর কাছে পৌঁছাতে তার এই বইটি অ্যামাজনে প্রকাশিত হয়েছে। নীচের লিঙ্ক অনুসরণ করে ক্রয় করতে ভুলবেন না:

তানজিলা জামান আপুর সাথে পরিচয় সম্পর্কে একটু ধারণা দিয়ে রাখি। প্রথমত আমার সাথে উনার পরিচয় প্রবাস কথার প্রিয় ‘শেখ তাসলিমা’ আপুর হাত ধরে। হঠাৎ একদিন তাসলিমা আপু মেসেন্জারে কল দিয়ে বসলেন। উনি বললেন “মামুন ভাই লন্ডনে থাকে তানজিলা জামান আপু, উনি কয়েকজন মানুষের মতামত নিতে চান বিদেশে মাতৃভাষার উপর গুরুত্ব নিয়ে। আপনি যদি চান মতামত দিতে পারেন। আমি বললাম কি যে বলেন আপু? এটা তো অনেক বড় সুযোগ কিন্তু আমার মত নগন্য মানুষ কিভাবে এত বড় একটা জায়গায় মতামত দিবে। উনি বললো আপনার প্রতি আমার অনেক আস্থা আছে। ব্যস বুকে স্রষ্টার নাম নিয়ে আর তাসলিমা আপুর ভরসা পেয়ে তানজিলা জামান আপুর সাথে কিছুক্ষন পরেই ফোনে ডিটেইলস আলোচনা করে আমি ও কিছুটা সময় নিয়ে একটা মতামত লিখে ফেলি। জানতাম না সিলেক্টেড হবো কিনা? মাশাআল্লাহ কয়েক মাস পরে দেখি আমার মতামতটা ও সিলেক্টেড হয়েছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ তানজিলা জামান আপুকে আমার মতামতটা সিলেক্ট করার জন্য এবং তাসলিমা আপুর প্রতি রইলো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। ভালোবাসার এই বন্ধন গুলো এইভাবেই সারাবিশ্বে ডানা মেলে আলো জ্বালিয়ে যাবে আমার সেই বিশ্বাস।

এবার আসি তানজিলা জামান আপুর প্রসঙ্গে। ফেইসবুক খুললেই যদি উনার টাইমলাইন ঘুরে আসেন, তাহলে আপনারা দেখবেন উনি প্রতিদিন কি পরিমান মানুষকে অনুপ্রাণিত করে থাকেন? একজন সাদা মনের মানুষ হয়ে কিভাবে নিজেকে অন্যের জন্য অকাতরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই ভিনদেশের মাটিতে বসে। সত্যি বলতে, ইচ্ছে থাকলে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসেই আপনি চাইলেই নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে ভালোবাসার বাংলাদেশকে তানজিলা জামান আপুর মত নিজেদের তুলে ধরতে পারেন। বিদেশে বসে ও আপনি ডিফারেন্স তৈরী করতে পারেন। আসুন নিজেদের কে পরিবর্তন করে এই বিদেশে থেকে ও প্রিয় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করি তানজিলা জামান আপুর মত। তানজিলা জামান আপুর মত মেয়েদের জন্য স্যালুট এবং সম্মান রইলো আমার পক্ষ থেকে। স্রষ্টার নাম নিয়ে আপনি এগিয়ে যান দুর্বার, আপনাকে কেউ থামাতে পারবেনা আপু।আপনাকে দেখে আমরা ও শিখছি এবং আরো শিখবো সেই আশা।

প্রতিটি পরিবার তাদের সন্তানদের সাথে তাদের মাতৃভাষা শিক্ষা চালিয়ে যেতে চায়। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সৈয়দা মুনা, ব্রিটিশ এমপি, এমবিই তাহের এবং অন্যান্য উচ্চ প্রোফাইল কর্মীদের দ্বারা ব্রিটিশ সংসদে তার বইটি উদ্ভোদন করা হয়েছিল। উনার বই এখন অ্যামাজনে বিশ্বব্যাপী উপলব্ধ। আসুন তানজিলা জামান আপুর বায়োগ্রাফির সাথে একটু পরিচিত হই।

তানজিলা জামান পুরস্কার বিজয়ী স্পিকার এবং রেডিও হোস্ট। তিনি একটি ফ্রিল্যান্স টিভি প্রযোজক, হোস্ট এবং অনুপ্রেরণীয় কন্টেন্ট ডিজাইনার।বিগত দিনে তিনি ছিলেন বৃহত্তম প্রকৌশল খামার আয়ের একটি প্রাক্তন ব্যবসায়িক উন্নয়ন প্রকৌশলী। তিনি একটি উৎসাহী অভিভাবক এবং নারী ক্ষমতায়নের কোচ। তিনি মানুষকে ইন্সপায়ার করেন তাদের পছন্দসই স্বপ্ন অর্জন করতে। তিনি তাদের সেরা প্রচেষ্টা এবং ডেডিকেশনের সঙ্গে ক্লায়েন্টদের থেকে বাস্তবসম্মত ফলাফল দেখতে ভালবাসেন। তিনি বিশ্বব্যাপী অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন প্রশিক্ষণ ডিজাইন পরিচালনা করেন। তার অনুপ্রেরণামূলক রেডিও শো এবং ফেসবুক লাইভ শো বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অনুপ্রাণিত। তিনি বৈচিত্র্যর মধ্যে ব্যক্তিত্ব মূল্য এবং মাতৃভাষা ব্যবহার প্রমোট করে থাকেন। তিনি ব্যাংক অফ আইডিয়াস সিআইআইসি, যুক্তরাজ্য প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ভাষা, শিক্ষা, সৃজনশীল শিক্ষা সম্পদ, কর্মশালা এবং সম্প্রদায়ের বহুসংস্কৃতির পিতামাতা এবং শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ডিজাইন করে থাকেন। তানজিলা এর দৃষ্টিভঙ্গি তার বই ‘মাইন্ড ইওর মাদার টাং’ এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে ২৫০ মিলিয়ন অভিবাসী এবং বিভিন্ন পিতামাতাকে অনুপ্রাণিত করা। আমার পক্ষ থেকে তানজিলা জামান আপুর বই এবং উনার জন্য রইলো অভিনন্দন।

গোলাম মাহমুদ, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.