মিশর

মিশরে শ্রমবাজারের দাফন-কাফন; চরম অনিশ্চয়তায় প্রবাসী শ্রমিকরা

পুরো মিশর এখন প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য এক জেলখানা। নি:শব্দ কান্নার আওয়াজে প্রকৃতি ভারি হয়ে উঠেছে। যখন আকাশে মেঘ ছিল তখন বৃষ্টি হলো না, আর এখন চৈত্রের দাবদাহে বিনামেঘে বিনা বর্ষনে গর্জন তর্জনে বক্ষ বিদীর্ণ হচ্ছে প্রবাসীদর। ২০১৫এবং ২০১৬, বছর দুটিতে শ্রমিকদের চাহিদা ছিল, বেতন বৃদ্ধির সুযোগ সুবিধাও ছিল মোটামুটি। কিন্তু এখন বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল সংখ্যার শ্রমিক ছাটাই এর ফলে সাধারন শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কায়রো কটন, কটনীল, ডেলটা, ডাইসসহ বিভিন্ন বৃহদাকারের শিল্প কারখানা থেকে ছাটাই হয়েছ কয়েক হাজার সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিক। এ ছাটাই এর পেছনে প্রধান কারন হলো-

১) প্রশাসনের পক্ষ থেকে একামা নবায়নের জন্য চাপ বৃ্দ্ধি।

২) একামা নবায়নের গগনচুম্বী খরচ নির্ধারণ।

৩) কাঁচামালের চরম ঘাটতি ও বায়ারদের মিশরের প্রতি চরম অনাগ্রহ।

৪) মুদ্রাস্ফীতি; মুরসি সরকারের ডলার প্রতি ৭,২০ LE দর বেড়ে গিয়ে ২০,৪০ Le গিয়ে পৌঁছে, যা বর্তমানে ১৬ Le or ১৮ Er মধ্যে ওঠানামা চলছে। এই পাগলা হাতি কখন যে আবার ৫০ LE তে গিয়ে পৌঁছে তা দেখা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বর্তমানে শ্রমিকদের বড় একটা সমস্যা যা তাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গ পড়ার মত কঠিন এক চাপ। আর তা হলো ২৪০ /২৬০ পাউন্ডের জরিমানা ২০০০ নূন্যতম থেকে শুরু করে কারো কারো জন্য ২০ হাজারের উপরে গিয়ে পৌঁছে। সবমিলিয়ে প্রবাসীরা এক চরম পরিস্থিতির শিকার এখন। একে তো ৭ পাউন্ডের ডলার কিনলো ১৮ থেকে ২০ পাউন্ডের বিনিময়ে, অপরদিকে প্রত্যাগমনকালে গগনচুম্বী জরিমানা। সেটাও আবার আকস্মিকভাবে, কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই।

প্রবাসীদের অনাকাঙ্খিত এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় বাংলাদেশ দূতাবাস অবৈধদের বৈধকরণে বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে ও তা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তাতে বড় কোন সফলতা দেখা যায়নি এখনো। মালিকদের অনাগ্রহ, কাগজপত্রের প্রসেসিং এ কোম্পানির মালিকদের পক্ষ থেকে জটিলতা এর পিছনে দু’একটি কারণ মাত্র। এর আগে কোন প্রশাসনই ইকামা লাগানোর ক্ষেত্রে এত তৎপরতা দেখায়নি। এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন। দেশীয় শ্রমিকরা বেকার; রাজনৈতিক কিছু কারণসহ নানাবিধ কারনে একামা নবায়নের বিষয়টা প্রশাসনের জন্য হয়তো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু মাঝখানে বিপাকে পড়েছে প্রবাসী শ্রমিকরা। এখন সরকার যদি কিছুটা নমনীয় হয়, তাহলে শ্রমিকরা কিছুটা হলেও রেহাই পাবে। আর যদি সরকার মনে করে বিদেশী শ্রমিকরা তাদের কাঁধের বোঝা, তাহলে ধর-পাকড় ও জেল জরিমানার ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

কিছুদিন আগে ‘বিদেশী শ্রমিক হটাও’ শিরোনামে শ্লোগানও শোনা গেছে মিশরে। তারপই মিশর সরকারের বর্তমান পদক্ষেপগুলো সত্যিকার অর্থেই দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের।

  • সানোয়ার উদ্দীন আমিন, কায়রো, মিশর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.