মিশর

এই বৈষম্যের শেষ কোথায়, বাংলাদেশী পাসপোর্ট ধারণ করা কি অপরাধ?

শেয়ার করুন

আমি গত মাসে দেশ থেকে ওমান এয়ারলাইন্স যোগে মিশর আসলাম। সঙ্গত কারণেই ওমানের রাজধানী মাস্কটে ট্রানজিট ছিলো। ট্রানজিটের সময়টা বেশ দীর্ঘ হওয়ার কারণে মাস্কট এয়ারপোর্টে ওদের এয়ার অফিসে গেলাম এবং বললাম- ‘আমি ঢাকা থেকে আসছি, কায়রো যাবো।কিন্তু আমার এখানে অনেক লম্বা সময় ট্রানজিট। আমার জন্য কি কোন ব্যবস্থা করা যাবে?’

আমাকে তখন জিজ্ঞেস করলো- ‘স্যার, আপনি কোন ন্যাশনালিটি ধারন করছেন?’
আমি বললাম- ‘বাংলাদেশ’।
তখন ঐ কর্মকর্তা একটি কাগজের লিষ্ট বের করলো এবং দেখলো। তারপর আমাকে যা বললো, রীতিমত অপমানিত বোধ করলাম।

কর্মকর্তা বললো- ‘সরি স্যার, বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ট্রানজিট পিরিয়ডে হোটেল বোর্ডিং আমাদের তালিকায় নেই।’
তখন লজ্জায় আর কিছু না বলে ওখান থেকে চলে আসলাম। বিমানবন্দরের ভেতরেই বসে বসে লম্বা সময়টা কাটাতে হয়েছে। এসব কারণে মাঝে মধ্যে নিজেকে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে অস্বস্তিতে থাকি!!

এখানে ক্লিক করুন, লাইক দিন, প্রবাসের সব খবর পৌঁছে যাবে আপনার কাছে

শুধু ওমান এয়ারলাইন্স নয়।বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য সবাই একই ধরনের আচরণ করে। এর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টেও ওদের সমস্যার কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিলো।কিন্তু ওরা ট্রানজিটে হোটেল বোর্ডিং দেয়নি। তবে এয়ারপোর্টের ভেতরেই খাবারসহ থাকার সুব্যবস্থা করেছিলো।

গরীব দেশ কোন সমস্যা নয়। আমরা গরীব হতে পারি, কিন্তু আমরা যদি সততা ও বিশ্বস্ততা দিয়ে নিজদেরকে গড়তে পারতাম তাহলে আজকে আমাদেরকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। এখনো আমরা যারা প্রবাসী আছি, আমরা যদি আমাদের কমিটমেন্ট ঠিক রেখে সততার পরিচয় দিতে পারি- আশা করি, সব জায়গায় মানুষ হিসেবে যে সম্মানটা সবার পাওয়া উচিৎ সেটা আমরা চেষ্টা করলে আদায় করে নিতে পারবো।

  • আবু সাইদ মাহমুদ, কায়রো, মিশর।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.