লিবিয়া

স্বপ্নের লিবিয়ায় এসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে লাশ হয়ে দেশে ফিরলো আশরাফ

শেয়ার করুন

লিবিয়ায় একের পর এক বাংলাদেশীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটলেও, ঐ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মত কোন জায়গা নেই এখানকার শ্রমিকদের সামনে। এ কারণে বড়ই অসহায় এখন লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশীরা। এবার অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়েও মুক্তি মেলেনি বাংলাদেশী শ্রমিক আশরাফ আলীর। তাকে অপহরনের পর মুক্তিপণ নিয়ে গুলি করে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসার এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। দরিদ্র পরিবারের সচ্ছলতার আশায় একদিন যে মানুষটি স্বপ্নের লিবিয়ায় এসেছিল, এক নির্মমতায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হলো সেই হতভাগ্য শ্রমিককে। জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের তোরাব আলীর বড় ছেলে আশরাফ আলী (৩০)। ৪ বছর আগে স্বপ্ন পুরণের আশায় পাড়ি জমান লিবিয়ায়।

Like Newএখানে এসে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর পার্শ্ববর্তী আরাধা এলাকায় টাইলসের শ্রমিক হিসেবে কাজ করে প্রথম কয়েক দফায় দেশে টাকা পাঠায় সে। কিন্তু প্রায় ২ বছর যাবত লিবিয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে দেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম বন্ধ থাকায় বেশ হতাশায় পড়তে হয়, লিবিয়ায় কর্মরত সব প্রবাসীদের। এ কারণে আশরাফ আলীও দেশে ফেরার দিন গুনছিল। শ্রমিকদের একটি সুত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন গত ১০ অক্টোবর আশরাফকে একটি সন্ত্রাসী চক্র অপহরণ করে নিয়ে যায়  এরপর থেকে তার কোন প্রকার সন্ধান না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েন তার সহকর্মীরা। ২ দিন পর সহকর্মীদের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সন্ত্রাসীরা। পরের দিন ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে আশরাফকে গুলি করে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে যায় এবং কে বা কারা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সংবাদ পেয়ে সহকর্মীরা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশরাফ আলীকে দেখতে পায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে তার মৃত্যু হয়। পরে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, তার পরিবার ও সহকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতায় গত রোববার লাশ বাংলাদেশে পৌঁছায় তার পরিবারের কাছে। সোমবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

Orpon Mahmud

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.