লিবিয়া

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে লাশের মিছিল !

লিবিয়া উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ২টি বোট ৫ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর, রোববার থেকে লিবিয়া উপকূলের সাব্রাতা-জোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ভেসে আসছে লাশ ! এ পর্যন্ত মহিলাসহ ১৭টি লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। লাশগুলো সনাক্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের (তালাজা) ফ্রিজে রাখা হয়েছে। এখনো সাগরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে এবং লাশের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের একজন সদস্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ইউরোপের যাত্রী নিয়ে লিবিয়ার সাব্রাতা এলাকা থেকে ছেড়ে যায় দুটি বোট। ঐ বোট দুটিতে সিরিয়া, ঘানা ও বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াই শ’ যাত্রী ছিল বলে সাব্রাতায় কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী জানান। এ ছাড়া ঐ দিন লিবিয়ার আবহাওয়া খুব একটা ভালো না থাকায় অন্যান্য বোট মালিকরা তাদের গোডাউনে যাত্রী থাকার সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে তাদের বোট না ছাড়লেও, ঐ ২টি ছোট ছোট বোট যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়।

Libya death migrant mediternian বোট ২টি ৩ ঘন্টা যাওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বোট ২টি ইতালী প্রশাসনের উদ্ধারেরও কোন খবর পাওয়া যায়নি। ৫ দিন পর লিবিয়া উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় একটি দুটি করে লাশ ভেসে আসতে থাকে। লাশগুলো ঐ দুটি বোটের যাত্রী বলেই ধারনা উদ্ধারকারীদের। লিবিয়ার সুরমান এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন সিরাজগঞ্জের রফিকসহ বেশ কয়েক জন শ্রমিক। তারা জানান, রোববার সকালে সাগরের কাছে এক বাড়িতে কাজে গিয়ে সাগর পাড়ের খুব কাছে ৪টি লাশ ভেসে থাকতে দেখে। কিছুক্ষণ পর সে লাশ লিবিয়া প্রশাসন এসে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এদিকে রোববার লিবিয়ার আল জাওয়াইয়া হাসপাতালে সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ২টি লাশ নিয়ে আসা হয়। লাশ দুটি ২৫-২৮ বছর বয়সী নারীর। তবে তারা কোন দেশী জানা না গেলেও, সিরিয়ান বলেই ধারনা অনেকের।

গত বছরের এই সময়টাতেই ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালী যাওয়ার পথে নৌকা ডুবে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুর মিছিলে ৪৬ জন বাংলাদেশীও ছিল। তাদের মধ্যে শাহাদত একজন। তার লাশ এখনো দেশে পৌঁছায়নি। গত বুধবার লিবিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌকায়ও বেশ কয়েকজর বাংলাদেশী ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে তাদের পরিণতি এখনো জানা যায় নি।

Libya death migrant mediternian Shahadat Bangladeshi
শাহাদত

এদিকে লিবিয়া উপকূল থেকে কতগুলো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও, লিবিয়ার বিভিন্ন এলাকার সাগর পাড় থেকে বেশ কয়েকটি লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, ছেড়ে যাওয়া বোট ২টিতে যেখানে ১২০ থেকে ১৩০ জন মানুষের ধারণ ক্ষমতা, সেখানে প্রায় আড়াইশ’ যাত্রী গাদাগাদি করে তোলা হয় এবং বোট ২টি ঝুঁকি নিয়েই ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সাগর বেশ উত্তাল দেখা যায়। এ কারণে প্রবল বাতাসে বোট ২টি ডুবে যেতে পারে বলে সাব্রাতা এলাকা জুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়। লাশ ভেসে আসার পর সেই গুঞ্জনই সত্য হলো। গতকাল (২১ আগস্ট) ঐ বোট দুটির নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ করে ‘প্রবাস কথা’।

  • অর্পন মাহমুদ, লিবিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.