ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স
Featured আফ্রিকা

ফ্লাইট নম্বর ই-টি ৩০২; মাত্র ২ মিনিট দেরী করায় বেঁচে গেলেন গ্রীসের এন্টনিস ম্যাভরোপলাস

স্কুল, কলেজ বা চাকরীক্ষেত্র- সব কটি জায়গায়ই সময় মত উপস্থিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একদিন সময় মত উপস্থিত হতে না পারলে, নানান অজুহাত দিয়ে পার পেতে হয় ভুক্তভোগীকে। কিন্তু এই ‘সময় মত’ উপস্থিত হতে না পারাটাই যদি হয় আপনাকে মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে তোলার একমাত্র অজুহাত?

হ্যাঁ, এমনটিই ঘটেছে গ্রিসের এন্টনিস ম্যাভরোপলাস (Antonis Mavropoulos) এর সাথে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স এর বিমান দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী হলেন তিনি। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবা থেকে কেনিয়ার নাইরোবিতে যাচ্ছিল। ১৪৯ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু ছিল বিমানটিতে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর কেউই বেঁচে নেই।

এদিকে বিমানটির ১৫০তম যাত্রী হওয়ার কথা ছিল এন্টনিস এর। তিনি ফেসবুকে লিখেন তার এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। পুরো পোস্টটি তিনি গ্রিক ভাষায় লিখেছেন যা বাংলা করলে সারমর্ম দাঁড়ায়-

“আমি ২ মিনিট দেরি করেছিলাম। আমার আসার আগেই বোর্ডিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি চেঁচামেচি করছিলাম যেন আমাকে ফ্লাইটিটি ধরতে সাহায্য করা হয়। কিন্তু ধন্যবাদ জানাচ্ছি সৃষ্টিকর্তাকে, এখনো বেঁচে আছি বলে।”

বেঁচে যাওয়া যাত্রীর টিকেট
বেঁচে যাওয়া যাত্রীর টিকেট

পোস্টটির সাথে তিনি তার ফ্লাইটের টিকেটও যুক্ত করে দেন।

এখন পর্যন্ত ইথিওপিয়ার সরকার এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানাতে পারেনি। উড্ডয়নের ৬ মিনিট পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাডারেও নজরে আসছিল না ওই বিমান। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বিমানটির।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলছেন, উড়োজাহাজটি আকাশে  উড়ার পরপরই স্থানীয় সময় সকাল ৮.৫৫ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া এয়ারলাইন্সের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী থেকে ৬০ কি.মি. দক্ষিণ পশ্চিমে বিশফু শহরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার কথা প্রথম জানা যায়, যখন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ টুইটারে তার ‘গভীর সমবেদনা’ প্রকাশ করেন।

ইথিওপিয়া কর্তৃপক্ষ নিহত যাত্রীদের দেশের নাম ও সংখ্যার তালিকা প্রকাশ করেছে। জানা গিয়েছে, এতে কেনিয়ার ৩২, কানাডার ১৮, ইথিওপিয়ার ৯, চীনের ৮, ইতালির ৮, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮, বিট্রিশ ৭, ফ্রান্স ৭, মিসর ৬, নেদারল্যান্ডের ৫, জার্মানির ৫, স্লোভাকিয়ার ৪, ভারতীয় ৪, রাশিয়ার ৩, সুইডেনের ৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩, মরক্কোর ২, ইসরাইলের ২, পোল্যান্ড ২, বেলজিয়ামের ১, উগান্ডার ১, ইয়েমেনের ১, সুদানের ১, টোগোর ১, মোজাম্বিকের ১, নরওয়ের ১, রুয়ান্ডার ১, সৌদি আরবের ১, সুদানের ১, সোমালিয়ার ১, সার্বিয়ার ১, মোজাব্বিকের ১, আয়ারল্যান্ডের ১, ইন্দোনেশিয়ার ১, ডিজিবোতি ১ ও বেলজিয়ামের ১ জন ছিলেন।

দুই মিনিটের দেরী একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল বলেই নিহত যাত্রীদের তালিকায় গ্রীসের এন্টনিস নেই। এই বিমান দুর্ঘটনার পরই চীন নিজ দেশের ৯৭ টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ ব্যবহার স্থানীয় সময় ৬ টার মধ্যে বন্ধ করতে বলেছে এবং কারণ হিসেবে ”জিরো টলারেন্স ফর সেফটি হ্যাজার্ড”কে উল্লেখ করেছে।
তবে এটিই একমাত্র দুর্ঘটনা নয়। প্রায় ৬ মাস আগে অক্টোবর মাসে একটি নতুন বোয়িং এয়ারক্রাফট (লায়ন বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮) জাভা সাগরের বুকে আছড়ে পড়েছিল উড্ডয়নের মাত্র ১ মিনিটের মাথায়। সেই বিমান দুর্ঘটনায়ও ১৮৯ জন যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছিল।
দুইটি দুর্ঘটনার যোগসূত্র না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে বিমান দুটির মডেল একই হওয়ায় হয়তো তাদের একই রকম ত্রুটি থাকতে পারে যা পরবর্তীতে বিমান দুটির দূর্ঘটনায় পতিত হওয়ার মূল কারণ ছিল।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.