অভিবাসন মধ্যপ্রাচ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে আগ্রহী আমিরাত: রাষ্ট্রদূত

চতুর্থ দফা যৌথ কমিশনের বৈঠকে ভিসা বন্ধ সংক্রান্ত জটিলতার পুরোপুরি মিটলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আবুধাবিতে আমিরাত ফেডারেল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে দুইদেশের যৌথ কমিশনের দুইদিনব্যাপী বৈঠক শেষে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান এ কথা জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমিরাত সরকার বলছে বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে এদেশে আছেন, তারা সবসময়ই ভাল। বাংলাদেশিদের জন্য তাদের ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা শ্রেণী অন্যদের তুলনায় অপরাধের সাথে তুলনামূলকভাবে বেশি সম্পৃক্ত হওয়ায় তারা ভিসা বন্ধের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু না জানিয়ে সময় নিয়েছে।”

“এ ব্যাপারে আমাদেরকে কাজ করতে হবে,সচেতনতা বড়াতে হবে। তবে আমিরাত সরকার ভাল ও দক্ষ জনশক্তি পঠানোর পরামর্শ দিয়েছে”, বলেন রাষ্ট্রদূত।

এসময় আমিরাত সরকার ৪ ফেব্রূয়ারি থেকে আমিরাতে অভিবাসীদের আসার ব্যাপারে কার্যকর হওয়া ‘সদাচরণ সনদ’ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রদূত ইমরান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান এবং আমিরাতের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার বিন মোহাম্মদ গারগাশ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের ভিসা ছাড় ও পরিবর্তনের ব্যাপারে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমাদের মন্ত্রী মহোদয় ভিসা ইস্যুতে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকায় ছিলেন। আমাদের জানানো হয়েছে, আভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকর করতে আমিরাত সরকার ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং এ কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করে কীভাবে এ কাজ এগিয়ে নেওয়া যায় তা দেখছে।”

এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, “এবার তারা অনেকটা সামনের দিকে এগিয়ে এসেছেন। আমরা আশাবাদী। এমআরপি পাসপোর্টের ব্যাপারে আমিরাত সরকার আমাদের সাফল্যের প্রশংসা করেছে।”

সোমবার আমিরাত ফেডারেল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মূল বৈঠক। আর মঙ্গলবার যৌথ কমিশনের বৈঠকে দুই পক্ষের কার্য বিবরণী স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারন, বিমান চলাচল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা হয় বলে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রধান জানান।

তিনি বলেন, “বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের হিস্যা রয়েছে ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে ভবিষ্যতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।”
আগামী ৫ ও ৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও শাসক পরিবারের শীর্ষ স্থানীয় সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল নাহিয়ানের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইমরান বলেন, “আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাহিয়ানের ওই সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে আমিরাতের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইয়িদ আল মুহেইরি এর যোগদানের কথা রয়েছে। তার মাধ্যমেও দুদেশের মধ্যে আরো সম্পর্কোন্নয়ন ঘটবে।”

এছাড়া দুটি দেশের মধ্যে পারষ্পরিক নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

যৌথ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশের একজন সচিবসহ অর্থ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান চলাচল, প্রবাসী কল্যাণ, জ্বালানীসহ বিভিন্ন আন্ত: মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে আসেন।

বুধবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান ও প্রতিনিধিদলের এতিহাদ এয়ারের একটি ফ্লাইটযোগে ঢাকার উদ্দেশে আবুধাবি ত্যাগ করার কথা আছে।

এর আগে ১৯৮১, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে দুই দেশের যৌথ কমিশনের অন্য তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতি ৩ থেকে ৪ বছর পরপর এ যৌথ কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল।

 

  • প্রবাস কথা ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.