অভিবাসন আমেরিকা কানাডা

এ সপ্তাহে মায়ের কাছে আসবে মেধাবী বাঁধনের লাশ

শেয়ার করুন

শুক্রবার উচিটা ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে জুমার নামাজের পর বাঁধনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোম বা মঙ্গলবার বাংলাদেশে লাশ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে জানিয়েছেন বাঙালি কমিউনিটি নেতারা। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালি সমাজ বাঁধনের এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস রাজ্যের উচিটা শহরে গত শনিবার রাতে বাংলাদেশি তরুণ এম হাসান রহমান বাঁধনকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে। উচিটা শহরে পিৎজা ডেলিভারি দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন এ মেধাবী ছাত্র। সদা হাস্যোজ্জ্বল বাঁধনের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাঁধনের বন্ধু নঈম জানান, বাঁধন ঢাকার উত্তরা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ শেষে স্কলারশিপ নিয়ে উচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন ২০১০ সালে। এরপর অহর্নিশ পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি জানান, বাটলার কমিউনিটি কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অ্যাসোসিয়েট শেষ করে আগামী সেশনে ক্যানসাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ করেছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। আগামী ডিসেম্বরে তার ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। গত মাসে তিনি ইউএস বিমানবাহিনীতে পরীক্ষা শেষ করেন। সর্বোচ্চ নম্বরও পেয়েছিলেন। সে কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার পছন্দসই যে কোনো শাখা বাছাই করার জন্য তাকে সময় দেন। তার ইচ্ছা ছিল-এ পথ ধরে মহাকাশ সংস্থা (নাসা) পর্যন্ত যাওয়া।

বাবা মজিবুর রহমান আবেদ হাউজিং লিমিটেডে প্রকৌশলী এবং মা হোসনে আরা বেগম বিডিবিএল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। তাদের পৈতৃক বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়িতে।

উচিটা শহরে এখন যেন বোবা কান্না! বাঙালি কমিউনিটিতে এম হাসান রহমান ছিল অনন্য এক প্রতিভা। যে কোনো অনুষ্ঠান তিনি জমিয়ে তুলতেন। তার সুরেলা কণ্ঠে মরমি, বাউল, দেশাত্মবোধক গান বেশ মাতাতো। যেন সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়ে চলে গেল না-ফেরার দেশে।

 

  • প্রবাস কথা ডেস্ক

 

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.