অভিবাসন

সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালী: ১৩ জনের মৃতদেহ, জীবিত উদ্ধার ৭৬৬ জন; নিখোঁজ অন্তত ২৩৯ জন

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপে আসার সময় অভিবাসীদের বহনকারী দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। ১৩ জনের মৃতদেহসহ ইতালীর কোষ্টগার্ড জীবিত উদ্ধার করেছে ৭৬৬ জনকে। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা বৃহষ্পতিবার এ খবর জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র ফ্লাভিও ডি জাকোমো বলেন, লিবিয়া থেকে গত বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে রাতে একটি রাবারের নৌকায় করে ২০ জন নারী আর ৬ শিশুসহ একদল অভিবাসী রওনা হয়। ঘণ্টা খানেক পর নৌকাটি ডুবে যায়। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই এর অধিকাংশ আরোহী সাগরে ডুবে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ শিশুর লাশ রয়েছে। নৌকাটিতে কতজন আরোহী ছিল তার উল্লেখ না করলেও সংস্থাটি জানায়, ২৭ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ১৩০ জন অভিবাসীকে বহনকারী আরেকটি ছোট রাবারের নৌকা ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়।

Like Newএ ঘটনায় দুই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র কারলোসা সামি বলেছেন, উদ্ধারের পর ইতালীর লামপেডুসা দ্বীপে পৌঁছানো দুজন অভিবাসী হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তাদের নিশ্চিত করেছেন। অন্য একটি রাবারের নৌকা থেকে এক মহিলার মৃতদেহসহ ১২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইতালীর কোষ্টগার্ড- যার মধ্যে ১৪ শিশু এবং ২০ জন নারী রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র ডি জাকোমো বলেন, লিবিয়ার উপকূলে উদ্ধার কর্মসূচী খুব শিগগির দেশটির কোস্টগার্ডের কাছেই হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে অভিবাসীদের প্রতারিত করছে মানব পাচারকারীরা। অভিবাসীদের আশঙ্কা, লিবিয়ার কোস্টগার্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে সাগরে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের ইতালীতে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এ কারণেই ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বলেছে, সর্বশেষ এ দুটি নৌকাডুবির ঘটনাসহ ভূমধ্যসাগরে ডুবে মৃতের সংখ্যাল চলতি বছর ৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৮ হাজার। শুধু অক্টোবর মাসেই ২৭ হাজার অধিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইতালীর কোষ্টগার্ড।

  • কমরেড খোন্দকার, ইতালী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.