ইতালীর পালেরমো থেকে প্রথমবারের মতো শীতবস্ত্র বিতরণ

২৯ ডিসেম্বর বৃহঃ, ২০১৬

মতামত: ১ টি

ইতালীর পালেরমোতে অনেক সামাজিক সংগঠন থাকলেও, প্রথমবারের মত দেশের দরিদ্র শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরনের জন্য একটি ইভেন্ট তৈরী করে পালেরমোর কয়েকজন উদীয়মান তরুণ। প্রতিদিন রাতে কাজ শেষে একটি বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে আড্ডা হতো তাদের। আর এই আড্ডা থেকেই দেশের ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই উদ্যোগ নেন বলে তারা জানান। এই ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহতাব মিয়া বলেন-

Palermo Italy‘প্রথমত আমরার কয়েকজন মিলে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু পরে এ বিষয়টি জানাজানি হলে আশেপাশের আরো বন্ধুবান্ধব আমাদের সাথে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে আমরা অনেক অনুপ্রাণিত হই। তখনই আমাদের এই উদ্যোগ একটু সাজিয়ে করার উৎসাহ পাই। বন্ধু সমাজ পালেরমো, ইতালী নামে আমরা ফেসবুকে একটি গ্রুপ তৈরি করি এবং আমাদের প্রথম ইভেন্টের নাম দেই দরিদ্র শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ইভেন্ট ‘শান্তি আসবেই’। এছাড়া আমরা আমাদের পরিচিতদের টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আমাদের ইভেন্টের কথা জানাই। আমাদের আহবানে অনেকেই যার যার সাধ্যমতো এগিয়ে আসেন। অল্পদিনেই আমরা প্রায় ১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছি এবং ইতিমধ্যেই আমরা সে টাকা দেশে পাঠিয়ে শীতের কম্বল বিতরণ শুরু করেছি।’

সাধারণত দেশে শীতবস্ত্র বিতরণের অনেক আয়োজন থাকে আর এই আয়োজনের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। তাদের এই কম্বল বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন-

Palermo Italy‘আমরা আসলে বেশ বড় অঙ্কের কোন টাকা সংগ্রহ করতে যাইনি। যেহেতু এটি ছিল আমাদের প্রথম কোন ইভেন্ট, তাই ছোট পরিসরে সুন্দরভাবে আমাদের এই ইভেন্ট শেষ করতে চেয়েছি। আমরা সংগ্রহের পুরো টাকাই আমরা দরিদ্র শীতার্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চেয়েছি। তাই আমরা কোন আয়োজনের পেছনে টাকা খরচ করিনি। দেশে আমাদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে পরিচিত দরিদ্র অসুস্থদের কাছে শীতের কম্বল পৌঁছে দিচ্ছি। দু’একদিনের মধ্যেই আমাদের সব কম্বল বিতরণ হয়ে যাবে।’

এখানে ক্লিক করুন, প্রবাস কথার সাথে থাকুন

পালেরমো শহরে অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কখনোই তাদের এই ধরণের কোন আয়োজন করতে দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা আসলো কিভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহতাব মিয়া জানালেন-

‘আমরা আসলে কাউকে শেখানোর জন্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে আমাদের মতো যদি অন্যেরাও এই ধরণের কাজে এগিয়ে আসনে, এসব মানুষের পাশে দাঁড়ান- তবে অবশ্যই একদিন দেশ ও সমাজের পরিবর্তন আসবে। ইনশাআল্লাহ সবার সহযোগিতা পেলে আমরা আগামীতে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করার চেষ্টা করবো।’

‘বন্ধু সমাজ’ আগামীতে কি সংগঠনে রূপ নেবার সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে উদ্যোক্তারা বললেন- আপাতত এমন কোন ইচ্ছে নেই তাদের। কারণ, সংগঠন হলেই কৃতিত্ব, কর্তৃত্ব কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলে আসবে। তাদের লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চিতদের সেবা করা, বিদেশ থেকে সাধ্য মত দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের এই আয়োজন সামাজিক কাজে অন্যদেরও উৎসাহিত করবে বলে সবাই আশা করছেন।

Palermo Italy

Tofjjol topu


  1. Mahtab miah says:

    ‘আমরা আসলে কাউকে শেখানোর জন্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে আমাদের মতো যদি অন্যেরাও এই ধরণের কাজে এগিয়ে আসনে, এসব মানুষের পাশে দাঁড়ান- তবে অবশ্যই একদিন দেশ ও সমাজের পরিবর্তন আসবে। ইনশাআল্লাহ সবার সহযোগিতা পেলে আমরা আগামীতে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করার চেষ্টা করবো।’

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *